October 27, 2020

banglaunioun.com

সময়ের সাথে চলা…..

আজ মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ এর জন্মদিন

Spread the love

আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কবি ফররুখ আহমদ। তিনি মুসলিম রেনেসাঁর কবি হিসেবে সমধিক পরিচিত। কারণ তার কবিতা তৎকালীন বাংলার অধঃপতিত মুসলিম সমাজের পুনর্জাগরণের অনুপ্রেরণা জোগায়। দুর্ভিক্ষ পীড়িত মানুষের হাহাকার, আর্তনাদ, অনাহার ক্লিষ্টের করুণ পরিনতি, সমকালের সংকট, জরাগ্রস্ত বাস্তবতা, সাম্প্রদায়িকতার হিং¯্রতা দেখে তিনি আঘাত পান। আর সকল অসঙ্গতি-ই তাকে সাহিত্য সাধনায় অনুপ্রেরণা জোগায়। আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম শ্রেষ্ট কবি ফররুখ আহমদ।

বাংলা সাহিত্যে মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের গর্বিত নবাব। যিনি তাঁর সৃষ্টিসম্ভার দিয়ে বাংলা সাহিত্য সমৃদ্ধ করেছেন। ঋণী করেছেন বাঙালি জাতিকে। দীর্ঘ চার দশকের সাহিত্য সাধনায় তিনি বিপুল পরিমাণ সাহিত্য-শস্য রেখে গেছেন পরবর্তী প্রজন্মের জন্য; যার বৃহদংশই শিল্প, শৈলী ও সৃষ্টিশীলতার গুণে এখনো সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে আবেদনময়ী। কবি ফররুখের অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো, একজন আধুনিক ও সৃষ্টিশীল কবি হওয়ার পরও আত্মপরিচয় ভোলেননি কখনো। সাহিত্য সাধনার দীর্ঘ পথপরিক্রমায় তিনি আত্মবিমুখ হননি কখনো। বরং তিনি তাঁর কাব্য ও রচনায় ‘বাঙালি মুসলিম’ পরিচয়টি জাগিয়ে তোলার প্রয়াস পেয়েছেন বরাবর। সাহিত্য সমালোচক ড. আহমদ শরীফ ফররুখ আহমদের এই চেতনাবোধ সম্পর্কে বলেন, ‘আমাদের বাংলা ভাষায় স্বকীয় আদর্শে সাহিত্য সৃষ্টি করতে হবে, আদর্শ হবে কোরআনের শিক্ষা, আধার হবে মুসলিম ঐতিহ্যানুগ, বিষয়বস্তু হবে ব্যক্তি বা সমাজ অথবা বৃহদর্থে জগৎ ও জীবন। এভাবে আমাদের জাতীয় সাহিত্য ও জাতীয় জীবন গড়ে উঠবে। তরুণ কবি ফররুখ আহমদ একান্তভাবে মুসলিম ঐতিহ্যের পরিপ্রেক্ষিতে কাব্য সাধনা করে পথের দিশারির গৌরব অর্জন করেছেন।’

তবে কবির ধর্মীয় চেতনা ও মূল্যবোধ যে সৃষ্টিশীলতা, কাব্যের অলংকার ও সাহিত্যের মান ক্ষুণ্ন করতে পারেনি সে সাক্ষ্য দিয়েছেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি শামসুর রাহমান। তিনি লিখেছেন, ‘তিনি মারা গেছেন একেবারে নিঃস্ব অবস্থায়। না, ভুল বললাম, নিঃস্ব কথাটা তাঁর জন্য প্রযোজ্য নয়। তাঁর মানসিক ঐশ্বর্যের কোনো কমতি ছিল না। তিনি রেখে গেছেন এমন কয়েকটি গ্রন্থ, যেগুলো পঠিত হবে দীর্ঘকাল।’

মুসলিম জাগরণের কবি হিসেবে ফররুখ আহমদ খ্যাতি পেলেও তাঁর কাব্যে মানবিকতা ও রসবোধের কমতি ছিল না। ইসলামী আদর্শই তাঁর কবিতায় মানুষ ও মানবিকতাকে মুখ্য করে তুলেছে। কবি আবু রুশদের ভাষায়, ‘ফররুখ আহমদ রোমান্টিক কবি।…তাঁর কাব্যে সৌন্দর্যের জয়গান অকুণ্ঠ। সুদূরের প্রতি আকর্ষণও তাঁর কাব্যের আরেকটি প্রধান বৈশিষ্ট্য। তবু তিনি নিঃসন্দেহে আধুনিক কবি। তাঁর একটি বলিষ্ঠ সজাগ তীক্ষ অনুভূতিশীল মন আছে, যা সৌন্দর্যের অস্তিত্বকে স্বীকার করার সাহস রাখে; কিন্তু রোমান্টিসিজমের বিপদ সম্পর্কে যা সর্বদা সচেতন।’

কবির এই অনুভূতিশীল মন কবিকে আরো বেশি মানবিক করে তোলে, মানুষ ও মানবতার মুক্তির তাড়নায় তাঁকে ব্যাকুল করে। জাগরণ বলি আর মুসলিম সমাজের সংস্কারের ডাক বলি, সব কিছুতেই কবির এই ব্যাকুলতার ছাপ ছিল স্পষ্ট। যেমন—পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থার অমানবিকতা ও রূঢ়তার বিরুদ্ধে কবি লেখেন, ‘ত হানি/নিয়ে যাবো জাহান্নাম দ্বারপ্রান্তে টানি/আজ এই উত্পীড়িত মৃত্যু-দীর্ণ নিখিলের অভিশাপ বও/ধ্বংস হও, তুমি ধ্বংস হও।’ [লাশ/সাত সাগরের মাঝি]

বাঙালি মুসলমানের রাজনৈতিক দুরবস্থায় কবিকে প্রতিবাদের ভাষা দেয়, ‘বাঙালি মুসলিম’ পরিচয়ে উদ্বুদ্ধ করে, রাজনৈতিক আত্মনিয়ন্ত্রণের মন্ত্রে উজ্জীবিত করে। কবি দেখেন, ‘বুদ্ধির মুক্তি’ স্লোগানে যে সাহিত্য আন্দোলন গড়ে উঠেছে, তা মূলত পতিত মুসলিম মধ্যবিত্ত সমাজকে আত্মসমর্পণের মন্ত্রই শেখাচ্ছে। তাই তিনি ‘মুক্তির বুদ্ধি’র পরিবর্তে বাঙালি মুসলিম সমাজকে আত্মনিয়ন্ত্রণের মন্ত্র শেখানোর স্বপ্ন দেখেন।

তবে তাঁর জাগরণী মন্ত্র, আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের স্লোগান প্রচলিত ইসলামী রাজনৈতিক চিন্তার কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছিল না। বরং তিনি গভীরভাবে বিশ্বাস করতেন বাঙালি মুসলিম সমাজে ধর্মচিন্তা থেকে রাজনৈতিক মতবাদ পর্যন্ত সব কিছুতে আমূল সংস্কার প্রয়োজন। তবে সেটা অবশ্যই সংস্কার, ইসলামের মৌলিক চেতনার অঙ্গহানি নয়। তাঁর ধর্মীয় মূল্যবোধ ও চেতনা এবং তাঁর সাহিত্যে তার প্রভাব সম্পর্কে আবুল ফজল লেখেন, ‘একটা সুনির্দিষ্ট মতাদর্শে প্রবল বিশ্বাসী থেকেও ফররুখ আহমদ বিশুদ্ধ কবি ছিলেন। এ কারণে আপন লক্ষ্যে সনিষ্ঠ থেকেও কবিতার নানা স্রোতে বিচরণ তাঁর পক্ষে সহজ হয়েছে। আদর্শনিষ্ঠ কবিতা সাধারণত একচোখা হয়ে থাকে। সুখের বিষয়, ফররুখ আহমদের বেলায় তা হয়নি।’

আর সৈয়দ আলী আহসান লিখেছেন, ‘ফররুখের কাব্যপ্রক্রিয়ায় যেহেতু একটা বিশ্বাসের উন্মুখরতা ছিল, তাই তার পাঠকের সংখ্যা আমাদের মাঝে সর্বাধিক। বিশ্বাসের সে একটা কল্লোলিত সমর্থন পেয়েছে। আবার ব্যবহৃত শব্দের পরিধির সার্থক বিবেচনায় এবং ধ্বনি সাম্যের কারণে অবিশ্বাসীরাও তাকে অগ্রাহ্য করতে পারেনি।’

কবি ফররুখ আহমদের সবচেয়ে সমৃদ্ধ ও সমাদৃত কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’র ভাষা ও ভাষ্য, ব্যাকুলতা ও আবেদন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কবি একই সঙ্গে মুসলিম সমাজকে অতীত ঐতিহ্য স্মরণ করিয়ে উজ্জীবিত করছেন আবার তাদের পতিত জীবনযাপন দেখে ব্যথিত হচ্ছেন। তিনি তাদের সোনালি দিনের শোভা গ্রহণ করতে বলছেন, অতীতে ফিরে যেতে নিষেধ করছেন। আর অতীতে ফিরে না গিয়ে ঐতিহ্য ধারণের নামই সম্ভবত জাগরণ। এ ডাক দিয়ে যাওয়ায় ফররুখ আহমদ জাগরণের কবি।

আদর্শিক নিষ্ঠা, জাতির জন্য নিঃস্বার্থ নিবেদন কবি ফররুখ আহমদের জীবনের সৌন্দর্য। এই দৃঢ়তা একসময় কবির জন্য ‘কাল’ হয়ে দাঁড়ায়। পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ‘খল’ হয়ে উঠতে না পারায় দুর্বিষহ জীবন যাপন করতে হয়। আদর্শের সঙ্গে আপস না করায় চাকরিচ্যুত হন তিনি। সীমাহীন সংকটের ভেতর দিয়ে জীবনাবসান ঘটে এই কবির। যে রাজনৈতিক চিন্তার কারণে ফররুখ আহমদকে সতীর্থরাই নির্বাসিত করেছিলেন, সে চিন্তা কিন্তু তাঁকে মোটেও সংকীর্ণ করতে পারেনি। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন শুরু হলে তিনি পাকিস্তান রাষ্ট্রযন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন এবং বাঙালির অধিকারের পক্ষে কলম ধরেন। তিনি বলেছিলেন, ‘এটা দৃঢ়ভাবেই আশা করা যায় যে পাকিস্তানের জনগণের বৃহৎ অংশের মতানুযায়ী পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা নির্বাচিত হবে। যদি তা-ই হয়, তাহলে এ কথা নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে বাংলা ভাষাই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে।’ তিনি পাকিস্তানি শাসকদের সমালোচনা করে ‘রাজ-রাজরা’ নামে নাটক রচনা করেন।

 

জন্ম ও জীবন

১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীরামপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ফররুখ আহমদ। ১৯২৪ সালে মা রওশন আখতারের মৃত্যু ঘটে। ১৯৩৭ সালে খুলনা জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করে রিপন কলেজে ভর্তি হন। স্কুল জীবনেই সম্পর্ক স্থাপিত হয় কবি গোলাম মোস্তফা, কথাসাহিত্যিক আবুল ফজল এবং কবি আবুল হাশিমের সাথে। বিখ্যাত সাহিত্যিক সত্যজিৎ রায় ছিলেন তার বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট স্কুলের সহপাঠী। পরবরর্তীতে আহসান হাবীব, আবু রুশদ ও আবুল হোসেনের সঙ্গে মিত্রতা হয়।

 

রিপন কলেজে শিক্ষক হিসেবে পেয়েছিলেন বিষ্ণু দে, বুদ্ধদেব বসু, প্রমথনাথ বিশীর মতো প্রখ্যাত সাহিত্যিকদের। ১৯৩৯ সালে সেখান থেকেই আইএ পাশ করেন। বন্ধু হিসেবে পান সুভাষ মুখোপাধ্যায় ও ফতেহ লোহানীকে। স্কটিশ চার্চ কলেজে দর্শন ও ইংরেজী সাহিত্যে বিএ ভর্তি হলেও অসমাপ্ত রেখেই নেমে পড়তে হয় কর্মজীবনে। ১৯৪৩ সালে কলকাতা আই.জি. প্রিজন অফিসে যোগদান করেন। একবছর পরেই সেখান থেকে সরে গিয়ে যোগ দেন সিভিল সাপ্লাই অফিসে। ১৯৪৫ সাল থেকে মোহাম্মদী পত্রিকাতে যোগ দেন। এই চাকরিতে ইস্তফা দিলে বেকার জীবনের শুরু।

দেশভাগের পর ঢাকায় রেডিও পাকিস্তানে যোগ দেন। প্রথমদিকে বামপন্থী রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়লেও ধীরে ধীরে মুসলিম রেনেসাঁর সমর্থক হন। ফররুখের মুখে বেজে উঠেছে স্বীকারোক্তির মত,

যখন শুনেছি আমি মৃত্যু আছে সূর্যেরও, অম্লান
অগণন জ্যোতিষ্কের ভাগ্যলিপি মৃত্যু দিয়ে ঘেরা,
তখনি হয়েছে মনে এ আকাশ রহস্যের ডেরা,
তখনি হয়েছে মনে এ জীবন ক্ষণিকের গান।

– মুহূর্তের কবিতা

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রতি তার ছিল অকুণ্ঠ সমর্থন। ধর্মীয় কুসংস্কার ও পাকিস্তানের অপরিণামদর্শী রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে তার লেখা ছিল কঠোর। ১৯৬৬ সালে সিতারা-ই ইমতিয়াজ খেতাব প্রত্যাখ্যান করেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রতিও তার সমর্থন ছিল। তারপরেও স্বাধীনতার পর তাকে চাকরির ক্ষেত্রে বিপর্যয়ে পড়তে হলো। এ সময়ে এগিয়ে এলেন আরেক কিংবদন্তী সাহিত্যিক আহমদ ছফা। ‘ফররুখ আহমদের কী অপরাধ’ শীর্ষক তীব্র ও তীক্ষ্ণ প্রতিবেদন লিখলেন গণকণ্ঠ পত্রিকায়। ফলে কবিকে পুনর্বহাল করা হয়। ১৯৭৪ সালের ১৯শে অক্টোবর ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। দীর্ঘ সাহিত্যিক জীবনে তিনি স্বজাতির অতীত ও বর্তমানকে বিম্বিত করেছেন দর্পণের মতো।

 

সাহিত্যচর্চা

কিশোর বয়স থেকেই কবিতার জগতে প্রবেশ করলেও ১৯৩৭ সালে মোহাম্মদ হবীবুল্লাহ বাহার সম্পাদিত বুলবুল পত্রিকার শ্রাবণ সংখ্যায় ‘রাত্রি’ নামে এবং মোহাম্মদ আকরম খাঁ সম্পাদিত মোহম্মদীতে ‘পাপ-জন্ম’ নামে প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়। প্রথম প্রকাশিত গল্প ‘অন্তর্লীন’ প্রকাশিত হয় মোহাম্মদীতে আষাঢ় সংখ্যায়। অন্যান্য প্রকাশিত গল্প বিবর্ণ, মৃত বসুধা, যে পুতুল ডলির মা, প্রচ্ছন্ন নায়িকা প্রকাশিত হয় ১৩৪৪-৪৬ বঙ্গব্দের পরিসরে। ১৯৩৮ সালে আল্লামা ইকবালের মৃত্যুতে তাকে উদ্দেশ্যে করে লেখেন স্মরণী। ১৯৪১ সালে কাব্যে কোরান শিরোনামে মোহাম্মদী ও সওগাত পত্রিকায় বেশ কিছু সুরার স্বচ্ছন্দ অনুবাদ করেন।

ফররুখ আহমদ প্রথম খ্যাতি পান ১৯৪৪ সালের দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে লেখা ‘লাশ’ কবিতার জন্য। প্রকাশিত হয় সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘আকাল’-এ। প্রথম কাব্যগন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ প্রকাশিত হয় এ বছরেই। কাজী আবদুল ওদুদ, আবদুল কাদির ও রেজাউল করীম তার কবিতার সম্ভাবনা প্রকাশ করেন। ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হয় ‘আজাদ করো পাকিস্তান’ কাব্য-পুস্তিকা।

 

দেশভাগের বছর ‘পাকিস্তান: রাষ্ট্রভাষা ও সাহিত্য’ প্রবন্ধ প্রকাশিত হয় সওগাত পত্রিকার আশ্বিন সংখ্যায়। ১৯৫২ সালে প্রকাশিত হয় কাব্যগ্রন্থ ‘সিরাজাম মুনীরা’। ১৯৫৮ সালে ঢাকা বেতারে প্রচারিত হয় তার কাব্যনাট্য ‘নৌফেল ও হাতেম’। প্রযোজক ও নায়ক হিসেবে ছিলেন খান আতাউর রহমান। ১৯৬০ সালে প্রেসিডেন্ট পুরস্কার ‘প্রাইড অব পারফরমেন্স’ লাভ করেন। একই বছর পান বাংলা একাডেমি পুরস্কার। পরবর্তী বছর নৌফেল ও হাতেম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। ঢাকা হলে তাকে দেয়া হয় বিপুল সংবর্ধনা।

১৯৬৩ সালে ‘মুহূর্তের কবিতা’ সনেটগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘বাংলা ভাষা ও সাহিত্য সপ্তাহ’ তে ফররুখের ডাহুক আবৃত্তি করা হয়। পাখির বাসা নামে শিশুতোষ গ্রন্থ প্রকাশ পায় ১৯৬৫ সালে। পরের বছর আসে আরেকটি গ্রন্থ– হাতেম তা‘য়ী। গ্রন্থদ্বয়ের জন্য যথাক্রমে ইউনেস্কো পুরস্কার ও আদমজী পুরস্কার লাভ করেন। বাংলা ভাষায় আরবি-ফারসি শব্দের ব্যবহারে অভিনবত্ব, বিষয়বস্তু ও মৌলিক আঙ্গিক তাকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে। যেমন-

ভেঙে ফেলো আজ খাকের মমতা আকাশে উঠেছে চাঁদ
দরিয়ার বুকে দামাল জোয়ার ভাঙছে বালুর বাঁধ;
ছিড়ে ফেলে আজ আয়েশী রাতের মখমল অবসাদ,
নতুন পানিতে হাল খুলে দাও, হে মাঝি সিন্দাবাদ!

ব্যঙ্গকবিতা ও সনেটেও তার কৃতিত্ব অসাধারণ। অন্যান্য রচনাবলির মধ্যে আছে হাবেদা মরুর কাহিনী (১৯৮১, ছড়ার আসর (১৯৭০, শিশুতোষ), হরফের ছড়া (১৯৬৮), নতুন লেখা (১৯৬৯) প্রভৃতি। দুর্ভিক্ষ বিষয়ক কবিতা ১৯৭৪ (একটি আলেখ্য) তার সর্বশেষ লেখা। এছাড়া তার সামগ্রিক জীবনে লিখেছেন প্রচুর হামদা-নাত, অনুবাদ করেছেন মাওলানা শফিউল্লাহকে নিবেদিত উর্দু ক্বাসিদা এবং বিচ্ছিন্ন নানা কবিতা।

ফররুখ ও মুসলিম রেনেসাঁস

১৭৫৭ সালে পলাশীর ঘটনা, ১৮৫৭-৫৮ সালে ভারতের আজাদী আন্দোলন, পরবর্তী দিনগুলোতে ব্রিটিশ বিরোধী বিভিন্ন তৎপরতা, ১৯২৩ সালে তুরস্কে দীর্ঘকালের মুসলিম খেলাফতের অবসান প্রভৃতি ঘটনাবলি ফররুখ আহমদকে প্রভাবিত করেছিল দারুণভাবে। পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতকে রেনেসাঁয় জ্বলে উঠে ইউরোপ। তাদের অনুপ্রেরণা ছিল প্রাচীন গ্রিক ও রোমান শিক্ষা, শিল্প এবং সভ্যতা। ফররুখ আহমদ অনুপ্রেরণা খুঁজে পেয়েছেন নবম ও দশম শতকের বাগদাদ, কায়রো কিংবা কর্ডোবার ভাঁজে। আর তাই রুমি, ফেরদৌসি, জামী, কারবালা কিংবা শবে কদর অনায়াসে তার কবিতার বিষয়স্তু হয়ে উঠেছে। তার উদাত্ত বাণী,

ভেঙে ফেল আজ খাকের মমতা আকাশে উঠেছে চাঁদ
দরিয়ার বুকে দামাল জোয়ার ভাঙছে বালুর বাঁধ,
ছিঁড়ে ফেলে আজ আয়েশী রাতের মখমল-অবসাদ,
নতুন পানিতে হাল খুলে দাও, হে মাঝি সিন্দবাদ।

– সিন্দবাদ, সাত সাগরের মাঝি

রেনেসাঁর কবি, জাগরণের কবি, ঐতিহ্যের কবি, জাতিসত্তার কবি ফররুখ আহমদ বাংলা সাহিত্যে মহান উচ্চতায় অধিষ্টিত। জাতীর আগামী স্বপ্নের জাল বুনতে পথ দেখিয়েছেন এই মহান কবি। তার শ্রেষ্ট সৃষ্টি ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্য গ্রন্থের জন্য তিনি অমর হয়ে আছেন। এটি কবির প্রথম প্রকাশিত কাব্য গ্রন্থ। প্রকাশক ছিলেন কবি বেনজীর আহমদ। প্রচ্ছদ এঁকেছিলেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন। মুসলিম ঐতিহ্যের পুনর্জ্জীবন কামনা করে রোমান্টিকতার আবহে কবি জাতিকে জেগে ওঠার আহবান করেছেন। অন্যরা যখন জ্ঞান, বিজ্ঞান, শিল্প সাহিত্যে এগিয়ে যাচ্ছে কবি তখন পিছিয়ে পড়া তার নিজ জাতীকে জেগে ওঠার ডাক দেন। কবির আহবান-
“কত যে আঁধার পর্দা পারায়ে ভোর হল জানিনা তা
নারঙ্গী বনে কাঁপছে সবুজ পাতা।
দুয়ারে তোমার সাত সাগরের জোয়ার এনেছে ফেনা
তবু জাগলে না? তবু তুমি জাগলে না?
সাত সাগরের মাঝি চেয়ে দেখো দুয়ারে
ডাকে জাহাজ
অচল ছবি সে, তসবীর যেন দাঁড়ায়ে
রয়েছে আজ।”
‘সাত সাগরের মাঝি’ বিষ্ময়কর এক কবিতা গ্রন্থ। ফররুখ আহমদের শ্রেষ্ট গ্রন্থ এটি। প্রকাশের এত বছর পরও এ গ্রন্থ সমানভাবে জাগ্রত ও প্রাণবন্ত। এ কাব্যগ্রন্থের অন্যতম একটি জনপ্রিয় ও বিখ্যাত কবিতা হলো ‘পাঞ্জেরী’। মুসলিম জাতীর পিছিয়ে পড়ার, অন্ধকার থেকে পরিত্রাণের কত দেরী তা জানতে কবি উৎসুক।
“রাত পোহাবার কত দেরী পাঞ্জেরী?
এখনো তোমার আসমান ভরা মেঘে?
সেতারা হেলাল এখনো ওঠেনি জেগে?
তুমি মাস্তুলে আমি দাঁড় টানি ভুলে;
অসীম কুয়াশা জাগে শুন্যতা ঘেরী।”

 

রেনেসাঁ মানে পুরেনোকে জাগিয়ে তোলা না। পুরাতন ভিতের উপর নতুন ব্যবস্থা ও নতুন পরিস্থিতিতে সামঞ্জশ্যপূর্ণ জাগরণ। ফররুখ তা বুঝতে পেরেছিলেন তীব্রভাবে।

এজন্য অধঃপতিত মুসলিম জাতির আশা ও ঐতিহ্যকে তুলেছিলেন কণ্ঠ ও ভাষায়,

মোর জামাতের সকল স্বপ্ন ভেঙে ভেঙে হ’ল চুর,
মিশে গেল মরু-বালুকায়-সাইমুমে,
ঝড়-মৌসুমে চলো আজি মোরা গড়ি সেই কোহিতুর
কারিগর, তুমি থেকো না অসাড় ঘুমে।

– কারিগর, আজাদ করো পাকিস্তান

ফররুখ বনাম নজরুল

প্রায়ই ফররুখ আহমদের প্রসঙ্গ সামনে আসলে কাজী নজরুল ইসলামের নামকেও আনতে দেখা যায়। বস্তুত তারা উভয়েই বাংলার মুসলিমদের সমস্যা নিয়ে ভাবিত ছিলেন। তবে নজরুলের যখন সাহিত্য জীবনের সমাপ্তি, ফররুখের তখন ‍শুরু। নজরুলের আবির্ভাব প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অস্থিরতা, খেলাফত ও অসহযোগ আন্দোলনের সময়। বিপরীতে ফররুখ এসেছিলেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামা, পাকিস্তান আন্দোলন ও দুর্ভিক্ষের অভিজ্ঞতা নিয়ে। ফলে বাঙালি মুসলমানের বঞ্চনা, অপমান এবং সামাজিক হতশ্রী অবস্থা উভয়েই পর্যবেক্ষণ করলেও তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও সাড়াদান সমান ছিল না। মরু-ভাস্কর, কাব্যে আমপারা, রুবাইয়াতে উমর খৈয়াম কিংবা অজস্র গজল রচনার পরেও নিজেকে ধর্ম ও জাতের উর্ধ্বে উঠে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন সমন্বয়বাদী হিসেবে। ১৯২৯ সালে এলবার্ট হলে বলতে পেরেছেন,

যে কূলে, যে সমাজে, যে ধর্মে, যে দেশেই জন্মগ্রহণ করি, সে আমার দৈব। আমি তাকে ছাড়িয়ে উঠতে পেরেছি বলেই কবি।

ফররুখ এদিক থেকে বিপরীত। তখন দুই প্রতিবেশি সম্প্রদায় বিভক্ত হয়ে পড়েছিল দ্বিজাতি তত্ত্বের টানাপোড়েনে। তার দায়ভার উভয় সম্প্রদায়ের। আল্লামা ইকবালের ভাবশিষ্য ফররুখ নিজ জাতির সমস্যাকে চোখে আঙুল তুলে দেখিয়েছেন। তার কথা ছিলো,

হে মাঝি! এবার তুমিও পেয়ো না ভয়,
তুমিও কুড়াও হেরার পথিক-তারকার বিস্ময়,
ঝরুক এ ঝড়ে নারঙ্গী পাতা, তবু পাতা অগণন,
ভিড় করে-যেথা জাগছে আকাশে হেরার রাজতোরণ।

– সাত সাগরের মাঝি, সাত সাগরের মাঝি

জীবন ও মানবতাবোধ

গণতন্ত্রী কিংবা সাম্যবাদীরা প্রায়ই ফররুখকে ভুল বোঝেন। প্রধান কারণ মুসলিম জাতীয়তাবোধ এবং ইসলামী ঐতিহ্য প্রতিষ্ঠার প্রতি তার দ্বিধাহীন সমর্থন। বস্তুত ফররুখ আহমদ আবিষ্কার করেছেন অত্যাচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে ইসলামের সংগ্রামকে। তার বড় প্রমাণ লাশ কবিতাটি, যার মধ্য দিয়ে তার উত্থান।

শাশ্বত মানব-সত্তা, মানুষের প্রাপ্য অধিকার,
ক্ষুধিত মুখের গ্রাস কেড়ে নেয় রুধিয়া দুয়ার,
মানুষের হাড় দিয়ে তার আজ গড়ে খেলাঘর,
সাক্ষ্য তার পড়ে আছে মুখ গুঁজে ধরণীর পর।

– লাশ, সাত সাগরের মাঝি

স্বধর্ম আর স্বজাতির প্রতি ভালোবাসা তাকে চ্যুত করেনি বিশ্বমানবতা থেকে। তার কণ্ঠেই ধ্বনিত হয়েছে,

লোহুতে পার্থক্য নাই বনি আদমের।
শিরায় শিরায় আর ধমনীতে দেখি বহমান
এক রক্তধারা।

– হাতেম তায়ী

সাম্যবাদ কিংবা গণতন্ত্রের চরম উদ্দেশ্য সামাজিক শান্তি ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা। ফররুখ ইসলামের আদর্শের সাথে তা খুঁজে পেয়েছিলেন। তাই নিপীড়িতের হয়ে, অত্যাচারিতের হয়ে বারবার ধ্বনিত হয়েছে তার কলম ও কণ্ঠ।

ফররুখ ও আধুনিকতা

তথাকথিত আধুনিক কবিদের মতো না হয়েও ফররুখ আহমদ আধুনিক কবি। পশ্চিমা আধুনিক কবিদের রচনার আঙ্গিক ও বিশুদ্ধতা তার লেখাতেও দৃশ্যমান। হাসান হাফিজুর রহমান তার ‘আধুনিক কবি ও কবিতা’ বই প্রকাশ করেন ১৯৬৫ সালে। ফররুখ আহমদ সম্পর্কে তার অভিমত উল্লেখযোগ্য। ‘ফররুখ আমাদের কাব্য সাহিত্যে আধুনিক উত্তরণে প্রকৃত সাহায্যটা করেছেন তাঁর কাব্যভাষা এবং আঙ্গিকের প্রয়োগে।’ চিত্রকল্প ও প্রতীকের ব্যবহারে তার মুন্সিয়ানা অনন্য।

রাত্রির অগাধ বনে ঘোরে একা আদম-সুরত
তীব্রতর দৃষ্টি মেলে তাকায় পৃথিবী,
জাগো জনতার আত্মা, ওঠো, কথা কও,
কতোকাল আর তুমি ঘুমাবে নিসাড়
নিস্পন্দ।

– রাত্রির অগাধ বনে, আজাদ করো পাকিস্তান

কাব্যকে নিছক পদ্যে রূপান্তরিত হবার হাত থেকে বাঁচিয়ে তার সাথে জীবনকে সম্পৃক্ত করতে পারার সাফল্যই তাকে ব্যতিক্রম করেছে। পরিণত করেছে মৌলিক কবিতে। চল্লিশের দশকে উপমহাদেশে মুসলিমদের স্বপ্নকে আর কোনো কবি এতটা কাব্যময় করে তুলতে পারেনি। এ যেন প্রিয় হারানো কোনো বাদশাহের অজস্র শব্দে সাজানো তাজমহল। চিত্রকল্পে সাদা, কালো, লাল এবং সবুজের সাথে হলুদের ব্যবহার দেখা যায়। জাফরান এবং জোছনাকে ফররুখ নিয়ে গেছেন অন্য মাত্রায়। আশা-নিরাশা, স্বপ্ন ও মোহময় জগতকে দৃশ্যমান করতে তিনি প্রায় ধূসর রংকে সামনে এনেছেন। নিকষ আকিক, লাল পোখরাজ, নারঙ্গী বন, রাঙা প্রবাল প্রভৃতি পাঠককে নিয়ে যায় অন্য এক জগতে। তারুণ্য-যৌবন, আশা ও আকাঙ্ক্ষা এসেছে নীল রঙ নিয়ে। যেমন-

ঝলসায় কালো মেহরাবে তাজা মুক্ত নীল প্রভাত। (বার দরিয়ায়)

আমরা কি ফররুখকে ভুল বুঝছি?

নয়া প্রগতিশীলতার স্রোতে ফররুখ আহমদের তাৎপর্য মূল্যায়নে বিশাল বড় ভুল হচ্ছে। প্রায়ই পাকিস্তান ও সাম্প্রদায়িকতার এক পৈতা ঝুলিয়ে দেয়া হচ্ছে তার গলায়। অথচ বিষয়টাকে আমরা ইতিহাসের আলোয় ফেললে সত্যিকার ফররুখের মনস্তত্ত্ব ধরা যায়। তার উত্থানের সময় নিখিল ভারতে ব্রিটিশবিরোধী মনোভাব প্রকট। শুধু ভারতের স্বাধীনতা নয়, মুসলিম জনগোষ্ঠীর বৃহত্তম অংশ চেয়েছিল স্বতন্ত্র শাসনব্যবস্থা। বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ (২০১৪) বইতে তখনকার তরুণদের মনোভাব টানতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন,

পাকিস্তান আনতে না পারলে লেখাপড়া শিখে কি করব?

তিনি আরও লেখেন,

অখণ্ড ভারতে যে মুসলমানদের অস্তিত্ব থাকবে না এটা আমি মনপ্রাণ দিয়ে বিশ্বাস করতাম।

আনিসুজ্জামানের আত্মজীবনী কাল নিরবধিতে বলা হয়েছে, ‘আমার জ্ঞান হতে দেখি, বাড়ির সকলে পাকিস্তান চান, মুসলিম লীগকে সমর্থন করেন এবং জিন্নাহ্‌কে নেতা মানেন। আশপাশেও এই ভাবটাই প্রবল ছিল’।  পরবর্তী সময়ের আরেক কিংবদন্তি আহমদ ছফার ভাষায়,

পাকিস্তান এবং ইসলাম নিয়ে আজকের বাংলাদেশে লেখেননি, এমন কোনো কবি-সাহিত্যিক নেই বললেই চলে। অন্য অনেকের কথা বাদ দিয়েও কবি সুফিয়া কামালের পাকিস্তান এবং জিন্নাহ্‌র ওপর নানা সময়ে লেখা কবিতাগুলো জড়ো করে প্রকাশ করলে সঞ্চয়িতার মতো একখানা গ্রন্থ দাঁড়াবে বলেই আমাদের ধারণা। (ফররুখ আহমদ: ব্যক্তি ও কবি, পৃষ্ঠা- ৫৩৯)

আদতে ফররুখ আহমদের অবস্থান ছিল শোষণের বিরুদ্ধে। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে পুলিশের গুলি চালানোর প্রতিবাদে রেডিও পাকিস্তান থেকে তাৎক্ষণিক সব অনুষ্ঠান বন্ধ করেন তিনি। নিজে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে সবাইকে নিয়ে নেমে আসেন রাস্তায়। স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের হাত থেকে পুরস্কার নিতে অস্বীকৃতি জানান। ‘হায়াতদারাজ খান’ ছদ্মনামে পাকিস্তানি শাসকচক্রের অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে রচনা করেন অসংখ্য ব্যঙ্গ কবিতা। খুব সম্ভবত তার অপরাধ, তিনি তার জনগোষ্ঠীর ভাষা আন্দোলন-পরবর্তী নতুন জাগরণকে ধরতে পারেননি।

সে যা-ই হোক, ফররুখ আহমদকে বিয়োগ করলে বাংলা সাহিত্যের দীর্ঘ এক অভিজ্ঞতাকে বিয়োগ করার মতো বোকামি হবে। বাঙালি জাতিসত্তা এবং বাংলা কবিতার অনিবার্য সংগ্রামী ইতিহাসকে বিয়োগ করা হবে। ফররুখ আহমদের প্রয়োজনীয়তা বাঙালির ইতিহাসের জন্যই। পৃথিবীর কোনো জাতিই নিশ্চয়ই নিজের সংস্কৃতির সম্পদকে ছুড়ে ফেলবে না। ফররুখ আহমদের অস্তিত্ব বাংলা সাহিত্যের সৌন্দর্য বাড়ায় বৈ কমায় না। বহু ফুলের উপস্থিতি যেমন আরো বৈচিত্যময় ও সমৃদ্ধ করে তোলে বাগানকে।


Spread the love

বাংলাদেশ

1 min read
Spread the love

Spread the loveদেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার ১৫ বছর পূর্তি আজ সোমবার। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট…


Spread the love
1 min read
Spread the love

Spread the loveঅবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের মৃত্যুর ঘটনায় গণশুনানির আয়োজন করা হয়েছে।…


Spread the love
1 min read
Spread the love

Spread the loveদেশে সরকারি হাসপাতালে করোনার নমুনা পরীক্ষায় ফি নির্ধারণকে সরকারের অবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত দাবি করে…


Spread the love
1 min read
Spread the love

Spread the loveকোরবানীর পশুরহাট করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের…


Spread the love
1 min read
Spread the love

Spread the loveসদরঘাটে দুই যাত্রীবাহী লঞ্চের সংঘর্ষে ডুবে যাওয়া লঞ্চের এক যাত্রীকে ১২ ঘণ্টা পর…


Spread the love
1 min read
Spread the love

Spread the love১৯৯৪ সালে কেনা বিভিন্ন সামগ্রীর জন্য উত্তর কোরিয়ার কাছে এখনও ১১.৬২ মিলিয়ন মার্কিন…


Spread the love
1 min read
Spread the love

Spread the love  শনিবার (২৮ জুন) অর্থ ও মানবপাচারের অভিযোগ কুয়েতে গ্রেফতার লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ…


Spread the love
1 min read
Spread the love

Spread the love করোনাকালীন সময়ে অপপ্রচেষ্টার মাধ্যমে যদি চালের মূল্য বাড়ানো হয়, তাহলে সরকারিভাবেই চাল…


Spread the love
1 min read
Spread the love

Spread the loveকরোনায় ১৩% চাকরিজীবী বেকার হয়েছেন, ২৫ ভাগের বেতন কমেছে। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের…


Spread the love
1 min read
Spread the love

Spread the loveদেশে করোনা রোগী সংখ্যা বাড়তে থাকলেও বেশির ভাগ হাসপাতালের শয্যা খালি পড়ে আছে।…


Spread the love

রাজনীতি