প্রতিবেদনে ক্লেমেন্সের বক্তব্য বিকৃত করেছে ‘দ্য ইকোনোমিস্ট’ – আইসিডিডিআর,বি

  • Update Time : Sunday, June 7, 2020
  • 44 Time View
Spread the love

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ে ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনোমিস্টের প্রতিবেদনে আইসিডিডিআরবি’র কর্মকর্তা জন ডি. ক্লেমেন্সের বক্তব্য অপ্রাসঙ্গিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি করেছে আইসিডিডিআরবি। করোনা পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিটিশ গণমাধ্যম ‘দ্য ইকোনোমিস্ট’ আইসিডিডিআরবি’র বক্তব্য বিকৃত করেছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ঐ দাবিকে অপ্রাসঙ্গিক উল্লেখ করা হয়। এদিকে, কোনো জরিপ ছাড়াই এ ধরনের দাবি করায় বিশেষজ্ঞরা গণমাধ্যমটির প্রতিবেদনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতেই কোভিড নাইন্টিনে আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে সাত লাখের বেশি হতে পারে। কম সংখ্যক পরীক্ষার কারণে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে সরকারি পরিসংখ্যানের চেয়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি হতে পারে বলে দাবি করে গণমাধ্যমটি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দ্য ইকোনোমিস্টের প্রতিবেদনে আইসিডিডিআরবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. জন ক্লেমেনসের মূল বক্তব্য প্রাসঙ্গিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। বাংলাদেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণের পরিমাণ সম্পর্কে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি আইসিডিডিআর,বি’র কোভিড ব্যবস্থাপনার দিকটি তুলে ধরেন জানান, কোভিড মহামারির শুরু থেকেই প্রতিষ্ঠানটি কর্মীদের কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখে। জ্বর, কাশি বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ থাকলে কর্মীদের ২৪ ঘণ্টার হটলাইনের মাধ্যমে স্টাফ ক্লিনিকে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। যাদের এসব উপসর্গ দেখা দিয়েছে, তাদের নিজস্ব ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা করানো হয়েছে। আর যারা কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি আইইডিসিআরের সহায়তায় আইসোলেশন ও কন্টাক্ট ট্রেসিং নিশ্চিত করা হয়েছে।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইসিডিডিআর,বি জানায়, জন ক্লেমেনসের বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে দ্য ইকোনোমিস্ট। আইসিডিডিআর,বির কর্মকর্তাদের ৪ থেকে ৫ শতাংশ কর্মী করোনায় আক্রান্ত হলেও এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গোটা রাজধানীকে তুলনা করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

আইসিডিডিআরবি’র বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মহাখালীর আইসিডিডিআরবি ক্যাম্পাসের প্রায় দুই হাজার কর্মী নিয়োজিত। তাদের চার থেকে পাঁচ শতাংশ সংক্রমিত হয়েছেন, যদিও আইসিডিডিআর,বি ক্যাম্পাস থেকে তাদের সংক্রমিত হওয়ার নজির পাওয়া যায়নি। গোটা ঢাকা শহরে করোনাভাইরাসের যে সংক্রমণ, আইসিডিডিআরবি কর্মীদের আক্রান্ত হওয়ার হার তার প্রতিনিধিত্ব করে না। এই হারকে সরলীকরণের মাধ্যমে গোটা ঢাকা শহরের জন্য প্রযোজ্য বিবেচনা করাটাও যৌক্তিক নয়।

দ্য ইকোনমিস্ট বলছে, বাংলাদেশে সরকারিভাবে করোনায় আক্রান্তের যে সংখ্যা জানানো হচ্ছে প্রকৃত সংখ্যা তার চেয়েও অনেক বেশি। কম পরীক্ষার অর্থই হচ্ছে প্রকৃত চিত্র আরও বেশি খারাপ হতে পারে।

যদিও সরকারি হিসেবে শুক্রবার (৫ জুন) পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬০ হাজার ৩৯১ জন। এদের প্রায় অর্ধেকই ঢাকার। এই দিন সকাল ৮টা অবধি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৩০ জনের মৃত্যু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮১১ তে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।

উল্লেখ্য, দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশে সরকারিভাবে প্রকাশিত আক্রান্ত ও সংক্রমণের সংখ্যা প্রকৃত চিত্রের চেয়ে কম। অনেক মানুষ আক্রান্ত হলেও তারা গণনার বাইরে রয়েছেন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ, ঢাকায় সাধারণভাবে সংক্রমণের হারটা কত সেটা আসলে বের করাটা জরুরি।   এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ করার আগে আরো বেশি গবেষণার ওপর জোর দেন বিশেষজ্ঞরা।


Spread the love

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি
২০১৯ © জাগোসময়.কম