বাংলাদেশের ১১.৬২ মিলিয়ন ডলার এখনো আটকে রেখেছে কিম

  • Update Time : Sunday, June 28, 2020
  • 41 Time View
Spread the love

১৯৯৪ সালে কেনা বিভিন্ন সামগ্রীর জন্য উত্তর কোরিয়ার কাছে এখনও ১১.৬২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাওনা আছে বাংলাদেশের।

সে টাকা পরিশোধের কোনো নামগন্ধও নিচ্ছেন না কিম জং উন- এমনটাই জানিয়েছে দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকা।

শনিবার (২৭ জুন) পত্রিকাটিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৯৪ সালে কেনা বিভিন্ন সামগ্রীর জন্য উত্তর কোরিয়ার কাছে ১১.৬২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বকেয়া পাওনা আছে বাংলাদেশের।

পাওনা টাকা আদায়ে চীনের বেইজিংয়ে বাংলাদেশী দূতাবাস উত্তর কোরিয়া দূতাবাসের সাথে কয়েকবার যোগাযোগ করলেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।

২৬ বছর আগে সোনালী ব্যাংকের সাথে বার্টার চুক্তির আওতায় এসব পণ্য আমদানি করে উত্তর কোরিয়া।

এসব পণ্যের জন্য কমপক্ষে ১১.৬২ মিলিয়ন ডলার ঋণী তারা।

চুক্তিঃ

বার্টার ৫ চুক্তির আওতায় উত্তর কোরিয়া বাংলাদেশ থেকে বাকিতে ৬.১৪ মিলিয়ন ডলারের পণ্য ক্রয় করে।

বার্টার ৫ এর পুরো বকেয়াগুলি বার্টার ৬ এ স্থানান্তরিত হয়েছিল, ১৯৯৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর স্ট্যান্ডিং ৬.২৬ মিলিয়ন ডলারে স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

১৯৯৫ সালের মার্চ ৩১ এ কোনও লেনদেন ছাড়াই বার্টার ৬ চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।

এরপর থেকে বেইজিংয়ে বাংলাদেশী দূতাবাস চীনের উত্তর কোরিয়ার দূতাবাসের কাছে বাকি বকেয়া পরিশোধের জন্য কয়েকবার যোগাযোগ করেছে, কিন্তু কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। ২০২০ সাল পর্যন্ত কোনো উত্তরও দেয় নি কিম জং উনের দেশ।

সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শনিবার দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, অনেক পুরানো ঘটনা, এই মুহূর্তে আমি সঠিকভাবে স্মরণ করতে পারছি না।

চুক্তির আওতায় সোনালী ব্যাংককে বাংলাদেশের পক্ষে এবং বিদেশী বাণিজ্য ব্যাংককে উত্তর কোরিয়ার পক্ষে ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য মনোনীত করা হয়েছিল।

১৯৯৪ সালে বার্টার ৬ এর স্বাক্ষরের পরে উভয় ব্যাংকই স্ব স্ব দেশগুলির পক্ষে ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল।

এই আন্তঃব্যাংক চুক্তিতে তিন মাসের ডলার এলআইবিওর হারে সুদ আদায়ের বিধান অন্তর্ভুক্ত ছিল।

এফআইডিকে প্রেরিত চিঠিতে আতাউর রহমান প্রধান লিখেছেন, বারবার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উত্তর কোরিয়ার ফরেন ট্রেড ব্যাংক সোনালী ব্যাংককে ৩০ জুন, ২০১২ তারিখে একটি সুইফট বার্তার মাধ্যমে ১০.০৪ মিলিয়ন ডলার বকেয়া নিশ্চিত করেছে।

উত্তর কোরিয়ার ব্যাঙ্ককে বারবার বকেয়া পরিশোধ করতে বলা হলেও, তারা আদৌ সেটি পরিশোধ করছে না চিঠিতে তাও যোগ করা হয়েছিল।

২০১৪ সালের মধ্যে দেনার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ১১.৬২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

এরপর, বাংলাদেশ দূতাবাস চীনে উত্তর কোরিয়ার দূতাবাসকে চিঠি দিয়ে বিলটি পরিশোধের জন্য অনুরোধ করেছে।

তবে কোনো লাভ হয়নি। এখন পর্যন্ত কোনো জবাব দেয় নি উত্তর কোরিয়া।

বার্টার চুক্তির আওতায় উত্তর কোরিয়া বাংলাদেশ থেকে যেসব পণ্য আমদানি করেছিল সেগুলো হলো: চাল, সিমেন্ট, চা, পাট ও পাটজাত পণ্য, ইউরিয়া সার, পশুর চামড়া, চামড়াজাত পণ্য, সাবান, ডিটারজেন্ট, টয়লেট্রিজ এবং গ্লিসারিন।

সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও ডিফেন্স রিসার্চ ফোরাম


Spread the love

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি
২০১৯ © জাগোসময়.কম